আধুনিক ক্রিকেটে যে প্রস্তর যুগের ব্যাটিং কতটা বিপদে ফেলতে পারে, হাড়ে হাড়ে টের পেলো বাংলাদেশ। উইকেট বাঁচিয়ে খেলতে গিয়ে রান করার কথাই যেন ভুলে গিয়েছিলেন টাইগার ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত সেটা হিতে বিপরীত হলো। জেতার মতো অবস্থান থেকে রানের চাপ বাড়িয়ে হেরেই গেলো স্বাগতিকরা। তা-ও দ্বিতীয় সারির নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ২৪৭ রানে নিউজিল্যান্ডকে বেঁধে ফেলে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল বাংলাদেশ, তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ২৬ রানে হেরেছে স্বাগতিকেরা।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দেয় সফরকারীরা।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ২১ রানের মাথায় পরপর দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেন কিউই পেসার নাথান স্মিথ, যদিও সেটি রুখে দেন লিটন দাস। এর আগে তানজিদ হাসান তামিম (২) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (০) রানে ফেরেন।

শুরুর ধাক্কা সামলে দলকে টেনে তোলেন সাইফ হাসান ও লিটন দাস। তাদের ১১৬ বলে ৯৩ রানের জুটিতে চাপ কাটিয়ে ওঠে বাংলাদেশ। তবে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করা সাইফ হঠাৎই ছন্দ হারান। পাকিস্তান সিরিজে ব্যর্থ এই ওপেনারের জন্য ম্যাচটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ৭৬ বলে ৫৭ রান করে আউট হন।

সাইফের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন তাওহীদ হৃদয়। নতুন সতীর্থকে পেয়েও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন। ৬৮ বলে ৪৬ রান করে আউট হন তিনি।

এরপর আফিফ হোসেন নামলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই কিউই বোলারদের বিপক্ষে স্বচ্ছন্দ ছিলেন না এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। তার ধীরগতির ইনিংসে স্কোরবোর্ডে চাপ বাড়ে। পরে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি। তবে তার আগে তাওহীদের সঙ্গে ৭৯ বলে ৫২ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিতে তাওহীদের অবদান ছিল ৩০ বলে ২৪ রান।

আফিফের ইনিংসের পরই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন দ্রুত বিদায় নিলে পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

শেষ দিকে এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান তাওহীদ হৃদয়। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৩ রান। সেই চাপে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৬০ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৫৫ রান করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২২১ রানে।

এর আগে মিরপুর শেরেবাংলায় টস জিতে ব্যাটিং করতে নামে নিউজিল্যান্ড। সর্বোচ্চ ৬৮ রান এসেছে হেনরি নিকোলসের ব্যাট থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেছেন ডিন ফক্সক্রফট। ৩০ রান উইল ইয়াংয়ের।

২১ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন শরিফুল ইসলাম। আউট করেন নিক কেলিকে। ৩০ রান করা উইল ইয়াংকে ফেরান রিশাদ হোসেন দলীয় ৯৪ রানে।

বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বোল্ড করে ফেরান কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথামকে। ১২৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর রিশাদের আঘাতে দ্রুতই আরেক উইকেট হারায় সফরকারীরা। তাদের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করা হেনরি নিকোলস বিদায় নেন দলীয় ১৩১ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে মাত্র ২৭ রান দিয়ে দুই উইকেট পাওয়া শরিফুল ১৪ রান করা আব্বাসকে ফেরালে ১৬৫ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন হয়। ১৯২ রানে জশ ক্লার্কসনকে (৮) তাসকিন ও ২২৬ রানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৯ রান করা ডিন ফক্সক্রফটকে ফেরান নাহিদ রানা। পতন হয় সপ্তম উইকেটের।

শেষ ওভারে ৭ রান করা ব্লেয়ার টিকনারকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন তাসকিন। ২৪০ রানে ৮ উইকেট হারায় ব্ল্যাকক্যাপসরা। ২১ রানে অপরাজিত ছিলেন নাথান স্মিথ। সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৪৭।

বাংলাদেশের হয়ে দুই উইকেট শিকার করেছেন শরিফুল ইসলাম। সমান দুই উইকেট গেছে রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদের ঝুলিতেও। একটি উইকেট পেয়েছেন নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ।